
ফরিদুল আলম ফরিদ: পবিত্র ঈদ উল ফিতর সামনে এলেই এক বিশেষ আবেগ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকা তখন ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করে। অফিস, কারখানা আর নানা পেশার ব্যস্ততা সাময়িক ভুলে লাখো মানুষ ছুটে চলেন গ্রামের বাড়ির পথে। প্রিয়জনের মুখ দেখার আকুলতা, মায়ের হাতের রান্না আর শৈশবের স্মৃতিতে ভরা সেই গ্রাম—সব মিলিয়ে ঈদের আগে এই ঘরে ফেরা যেন এক অনন্য আনন্দযাত্রা।
ঈদকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা যায় মানুষের ঢল। বিশেষ করে গাবতলী বাস স্ট্যান্ড, সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড এবং কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। হাতে ব্যাগ, সঙ্গে পরিবার-পরিজন—এই দৃশ্য যেন প্রতি বছরের চেনা ছবি।
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাইরুন নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল এর একাউন্টেন্ট হিসেবে কর্মরত রাজবাড়ী জেলার পাংশা’র বাসিন্দা মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, “সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় গ্রামের বাড়ি যাওয়া খুব একটা হয় না। কিন্তু ঈদের সময়টা পরিবারের সঙ্গে না কাটালে যেন মনই ভরে না। তাই যত কষ্টই হোক, ঈদের আগে বাড়ি ফিরতেই হবে।”
শুধু চাকরিজীবী নয়, পোশাক কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী—সবাই এই সময়টায় গ্রামে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকেন। অনেকেই আগেভাগে টিকিট সংগ্রহ করেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে টার্মিনালে এসে যাত্রার চেষ্টা করেন।
ট্রেনযাত্রা বরাবরই ঘরমুখো মানুষের কাছে জনপ্রিয়। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে অতিরিক্ত ট্রেন ও বগি সংযোজন করে। তবুও টিকিট পাওয়ার জন্য অনেককে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অন্যদিকে সড়কপথে যাত্রীরা যানজটের আশঙ্কা নিয়ে হলেও পরিবারের টানে যাত্রা শুরু করেন।
বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন আবেগের চিত্র। কোথাও পরিবারের সবাই মিলে হাসিমুখে যাত্রা শুরু করছেন, আবার কোথাও বিদায়ের মুহূর্তে চোখে জল। অনেকের জন্য এই যাত্রা শুধু বাড়ি ফেরা নয়, বরং শিকড়ে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যানজট কমাতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলন আর ভালোবাসা। তাই ব্যস্ত শহর ছেড়ে গ্রামের পথে মানুষের এই ঘরে ফেরা যেন বাঙালির এক চিরচেনা সংস্কৃতি। বছরের এই সময়টায় রাজধানী খানিকটা নির্জন হয়ে পড়লেও দেশের গ্রামগুলো ভরে ওঠে হাসি, আনন্দ আর আত্মীয়তার উষ্ণতায়।